মঙ্গলবার ১৪ আগস্ট ২০১৮, ০৩:১০:০২

প্রকাশিত : শনিবার, ১১ জুলাই ২০১৫ ১২:১৮:৩৫ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon


ইরানের পরমাণু ইস্যুতে তৃতীয় দফায় সময় বাড়ল

ইরানের পরমাণু ইস্যুতে চুড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের সময়সীমা ফের বাড়ল। চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছতে ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তির সোমবার পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে দু’সপ্তাহে আলোচনার সময় বাড়ল তিনবার। চুক্তি পাকা করার পথে পশ্চিমারা বাধ সাধছে বলেই বারবার তা পিছিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ইরানের।

দু’সপ্তাহের আলোচনায় উভয়পক্ষই অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড আলোচনার গতি খুবই ধীর বলে জানিয়েছেন।

চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তি করার সময়সীমা ছিল শুক্রবার। কিন্তু আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চুক্তি সই করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভিয়েনায় বিশ্বের ক্ষমতাধর ছয়টি রাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দু’পক্ষের আলোচনা চলছে।

ইরানের ওপর থেকে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন এবং ইরানের অতীত পরমাণু কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য আদায়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় দু’পক্ষের বনিবনা হচ্ছে না।

পরমাণবিক কর্মসূচির মাধ্যমে ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরি চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে আসছে পশ্চিমা দেশগুলোসহ মধ্যপ্রাচ্যের ইরান বিরোধী রাষ্ট্রগুলো। এর বিপরীতে নিজেদের পরমাণু কর্মসূচিকে বরাবরই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে নিয়োজিত বলে দাবি করে আসছে ইরান।

এদিকে চলমান আলোচনায় ইরান তার পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে তাদের সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছে, আলোচনার টেবিলে থাকা চুক্তির ব্যাপারে ইরানকে শনিবারের মধ্যেই ‘হ্যাঁ বা না’ বলতে হবে।

১৩ বছর ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অচলাবস্থা চলার পর বিশ্ব শক্তিগুলো ইরানকে চুক্তির ব্যাপারে রাজি করাতে চাপ বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিয়েনার একটি মসজিদে রাতে নামাজ আদায়ের পর বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা বেশ কয়েকটি দেশের অবস্থানে পরিবর্তন ও অতিরিক্ত দাবি লক্ষ্য করেছি।’

জারিফ ইরানের আল-আলম টিভিকে বলেন, ‘পি৫+১ গ্রুপের প্রত্যেকটি দেশের অবস্থান আলাদা, যা আলোচনাকে অধিকতর কঠিন করে তুলেছে।’

জাওয়াদ জারিফ জানান, ছয় জাতিগোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলো তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে ইরানের ওপর অতিরিক্ত দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

জার্মানি এবং জাতিসংঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্যদেশ ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও আমেরিকাকে নিয়ে ছয় জাতিগোষ্ঠী গঠিত। গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিনান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেছিলেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীকে বলপ্রয়োগ এবং চুক্তি- এর মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে। তিনি আরো বলেছিলেন, বলপ্রয়োগের পন্থা বেছে নিলে তার পরিণতি ভালো হবে না।

ওদিকে, অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় চলমান পরমাণু আলোচনার ১৪তম দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি তড়িঘড়ি করে চুক্তি সম্পাদন না করার ওপর জোর দিলেও সতর্ক করে দেন যে, তিনি ‘চিরদিন’ আলোচনার টেবিলে থাকবেন না।

তিনি বলেন, শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেয়া না হলে তিনি আলোচনার টেবিল থেকে উঠে আসতে প্রস্তুত রয়েছেন।

এ ব্যাপারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে তার দেশের পরমাণু আলোচনা রোববার পর্যন্ত চলতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করতে চাই না। আমরা চাই ভালো চুক্তি।’ সূত্র: রয়টার্স ও রেডিও তেহরান

সংবাদটি পঠিতঃ ৫৭ বার


আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    সর্বশেষ খবর