মঙ্গলবার ১৪ আগস্ট ২০১৮, ০৩:০৯:৩৬

প্রকাশিত : শনিবার, ১১ জুলাই ২০১৫ ১০:৩৯:২৮ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon


বাংলাদেশে ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালের জনপ্রিয়তার কারণ

বাংলাদেশে টেলিভিশন দর্শকদের কাছে ভারতীয় বাংলা চ্যানেলগুলো বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ।বিশেষ করে এই চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত সিরিয়াল খুবই জনপ্রিয় বাংলাদেশে।

একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশে অনেক বিনোদনমূলক টিভি চ্যানেল থাকলেও, জনপ্রিয়তার দিক থেকে যথাক্রমে তৃতীয় এবং সপ্তম রয়েছে স্টার জলসা এবং জি বাংলা। ভারতীয় বাংলা এই চ্যানেলগুলোর মূল আকর্ষণ সিরিয়াল এবং কিছু রিয়েলিটি অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশে ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালের এই জনপ্রিয়তার কারণ কি?

এ বিষয়ে রাজধানীর একজন গৃহিণী শিমু আক্তার বলেন, পরিবারের সুখ-দু:খ নিয়ে কাহিনীটা হয়, সেটা ভাল লাগে। রোমাঞ্চও থাকে। এছাড়াও ভারতের জামা-কাপড় এবং মেকআপও ভালো হয়। এজন্যই দেখি।

একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা নার্গিস জাকিয়া সুলতানা জানান, সময় কাটানোর জন্য তিনিও ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালকেই বেছে নেন।

তিনি বলেন, প্রথমে জি বাংলার রাশি নাটকটা আমার নজরে পড়ে।কিছুদিন দেখার পর মনে হল বাস্তবের সাথে তেমন মিল নেই। কিন্তু এরপরও এটা-ওটা করে কয়েকটা দেখা শুরু করলাম।

তবে ভারতীয় বাংলা নাটকের জনপ্রিয়তা শুধু টিভি পর্দায়ই সীমাবদ্ধ নেই। দীর্ঘ এই সিরিয়ালগুলোর চরিত্রের নামে জামা থেকে শুরু করে শিশুদের খাতার মলাটেও স্থান পেয়েছে এসব নাটকের নায়িকারা। এই নাটকগুলোর জনপ্রিয়তার পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে, তবে সবচেয়ে বড় যে কারণটি বারবার উঠে আসছে এবং সবার মুখ থেকেই উঠে আসছে সেটি হচ্ছে বিজ্ঞাপন। ভারতীয় চ্যানেলে নয়, বাংলাদেশি চ্যানেলগুলোর বিজ্ঞাপন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোতে এখন অনেকটা এমন দাড়িয়েছে যে, বিজ্ঞাপনের ফাঁকে ফাঁকে নাটক দেখানো হয়।

পরিবারে নারীদের মধ্যে ভারতীয় সিরিয়ালের জনপ্রিয়তা বেশি হলেও অনেক পুরুষই নিয়মিতই এগুলো দেখেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে হারে নাটক তৈরি হচ্ছে, সে হারে অভিনেতা বা কলাকুশলী তৈরি হয়নি।

তার সাথে একমত প্রবীণ অভিনেতা এবং নির্মাতা মামুনুর রশিদ।

তিনি বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশে প্রচুর নতুন টেলিভিশন চ্যানেল যাত্রা শুরু করেছে এবং নাটকের পরিমাণও বেড়েছে। কিন্তু সেই বৃদ্ধির সাথে সাথে মান তো বাড়েইনি বরং আরো নেমে গেছে।ভারতীয় নাটকে যারা অভিনয় করে তাদের একটি গ্রুমিং সেন্টারই আছে। কিন্তু বাংলাদেশে এমন কোন ব্যবস্থা নেই। এছাড়াও যারা ভালো অভিনয় করে, তাদের বেশি টাকা দিতে হয় বলে নির্মাতারা নিচ্ছেন না।

বাংলাদেশি চ্যানেলের এত নাটকের ভিড়ে ভারতীয় বাংলা নাটকের এতটা জনপ্রিয়তার কারণ সম্পর্কে সৌমিত্র বড়ুয়া নামে এক দর্শক বলেন, ওরা সিরিয়ালের একটি ভাষা বের করেছে। একটু উচ্চগ্রামের, উচ্চস্বরে কথা বলা, বিস্তৃত একটা সুর আছে তাদের নাটকে। বাঙ্গালি কিন্তু এই সুর ভালবাসে। আর ওরা যেভাবে গল্পটা বলতে পারে তাতে প্রতি মুহূর্তে কৌতুহলটা উদ্রেক হয়।নারীদের মধ্যে ভারতীয় নাটকের জনপ্রিয়তা বেশি হলেও, পুরুষেরাও যে এতে আকর্ষিত হন না তা নয়।

তিনি বলেন, দেখলাম আমার বাসায় মা আর বোন নিয়মিত দেখছে।তাদের সাথে বসে আমিও দেখা শুরু করলাম। একটা পর্যায়ে দেখলাম আমিও উদগ্রীব হয়ে বসে থাকি যে ভবিষ্যতে কি ঘটবে।

অনেক দর্শক বলছেন, বাংলাদেশি নাটক ভালো লাগলেও বিজ্ঞাপনের বাড়াবাড়ির কারণে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

দর্শকদের বিরক্তি সত্ত্বেও চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপনের এই আধিক্যের কারণ বিষয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান শামীম শাহেদ বলেন, ভারতীয় বাংলা চ্যানেলগুলো দেখার জন্য আমাদের অথবা কেবল অপারেটরদের একটি কার্ড কিনতে হয়।সেই কার্ডের টাকাটা পায় চ্যানেলের মালিক কর্তৃপক্ষ, কিন্তু আমাদের বিজ্ঞাপন ছাড়া আয়ের আর কোন উৎস নেই।

এছাড়া নাটক নির্মাণে বাজেটের অভাবকেও একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন শামীম শাহেদ।

২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নিয়েলসেনের জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ টেলিভিশন দেখে এবং সংবাদ ও চলচ্চিত্রের পরই সবচেয়ে বেশি দেখে টেলিভিশন নাটক। উন্নত দেশগুলোতে যখন টেলিভিশনের দর্শক দিনকে দিন কমছে, সেখানে এই চিত্র বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য বেশ আশাব্যঞ্জক।কিন্তু দর্শকদেরকে ধরে রাখার উপায় খুঁজে বের করতে না পারলে  বিদেশী অনুষ্ঠানের সাথে পাল্লা দেয়াটা দিন-দিন আরো কঠিন হবে।সূত্র: বিবিসি

সংবাদটি পঠিতঃ ৮৪ বার


আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    সর্বশেষ খবর