বৃহস্পতিবার ১৬ আগস্ট ২০১৮, ০২:২২:২০

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ ২০১৮ ০৮:১০:৩৯ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon


শিশুদের জন্য ব্র্যাকের খেলার জগৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক শিক্ষা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট শিশুদের জন্য খেলার জগৎ প্রকল্প উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ প্রকল্প আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করছেন তারা। তারা বলছেন, স্বল্প পরিসরে এ প্রকল্প গড়ে উঠলেও খেলার জগতের এ মডেল বিভিন্নভাবে উন্নয়ন করছেন তারা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শুরু করে বাণিজ্যিকভাবেও এ প্রকল্প উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ঢাকার বনশ্রী, যাত্রাবাড়ি, উত্তরখান, জিরানী, সাভার, টাঙাইলের মির্জাপুর ও নরসিংদীর শিবপুরে এ প্রকল্প চালু রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধোলাইপাড় সার্কেল অফিসারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত খেলার জগৎ কার্যক্রম কর্মসূচির প্রস্তুতিমূলক সভায় এ প্রকল্পকে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সভায় উপস্থিত বক্তারা শিশুদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশ সাধনে এ উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণের তাগিদ দেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের সার্কেল অফিসার (সিনিয়র সহকারী) শাহনাজ সুলতানা বলেন, এই খেলার জগৎ কার্যক্রম একটি মহতী উদ্যোগ। তবে এ কর্মসুচির আরও প্রচারণা দরকার। যাতে করে সাধারণ মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারে। প্রথমে মাঠকর্মীদের মাধ্যমে একটি জরিপ পরিচালনা করতে হবে। সে অনুযায়ী সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরসহ সকল শিশুদের সম্পৃক্ত করতে হবে। এ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সম্পৃক্ত করার কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকার জনপ্রতিনিধিদেরও এ কার্যক্রমের সঙ্গে একীভূত করতে হবে। তাহলে এ কর্মসূচির ব্যাপ্তি বাড়বে। তিনি এ কার্যক্রমকে বেগবান করতে সবরকমের সহায়তার আশ্বাস দেন। সভাপতির বক্তব্যে কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার বলেন, এ কার্যক্রমের ব্যপ্তি বাড়াতে হবে। মাঠকর্মীদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। খেলার সাথীদের সংখ্যা বাড়ানো গেলে শিশুদের বিকাশে ভূমিকা  রাখা যাবে। 

সভার শুরুতে খেলার জগৎ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন কার্যক্রমের প্রোগ্রাম স্পেশালিষ্ট নাহিদ পারভীন। তিনি জানান, ব্র্যাক শিক্ষা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বেশকিছু কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর মধ্যে ইসিডি ও সেন্টার ফর প্লে এর আওতায় মাস্টার্স ইন ইসিডি, খেলার জগৎ প্রকল্প, শিশু যত্ন প্রকল্প ও গবেষণা করা হয়। 

খেলার জগৎ প্রকল্পে ৩টি বয়সভিত্তিক খেলার মডেল রয়েছে(১-৩ বছর, ৩-৪ এবং ৪-৫ বছর)। ১১০টি ভেন্যুতে ৩০৩টি খেলার জগৎ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ৩০৮ জন প্রশিক্ষিত খেলার সাথী দ্বারা খেলার জগৎ পরিচালিত হয়। ১-৩ বছর ২জন ৩-৫ বছর ১ জন খেলার সাথী থাকে। প্রতি খেলার জগতে শিশুর সংখ্যা ৩০জন। খেলার জগতের সময়সূচি ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট। প্রশিক্ষিত দক্ষ কর্মীর তত্ত্বাবধানে খেলার জগৎ পরিচালিত হয়।  

খেলার জগৎ কারিকুলামের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে-সকল খেলা আর্লি লার্নিং ডেভলপমেন্ট স্ট্যান্ডার্ডকে ভিত্তি করে উন্নয়ন করা। প্রতিটি খেলা পর্যায়ক্রমে ও ধাপে ধাপে ফিল্ড টেস্টিং, ফিডব্যাক ও রিসার্চের তথ্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন করা। খেলায় শিশুর সক্রিয় অংশগ্রহণ। শিশুর নেতৃত্বে খেলা পরিচালনা। স্থানীয় সংষ্কৃতি ও ঐতিহ্যের  আলোকে খেলাসমূহ উন্নয়ন করা শিশুর সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী মনোভাব প্রকাশের সুযোগ খেলায় স্বেচ্ছাসেবী মায়েদের অলংশগ্রহণ।

খেলার জগতের স্থাপত্য নকশা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগ। এ খেলার জগতে শিশুদের জন্য ৫টি জগৎ তৈরি করা হয়। খেলার উপকরণ উন্নয়ণ কর্মশালায় নিজ হাতে খেলনা উপকরণ বানানো হয়। এর মাধ্যমে দেশীয় শিশুদের মেধা বিকাশে এক অনন্য ভূমিকা পালন করা হয়। এ কার্যক্রমের একটি প্যরেন্টিং এডুকেশন। এ এডুকেশনে শিশুদের মেধা বিকাশে অভিভাবকদের সঠিক ট্রেনিং দেয়া হয়। দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিভাবক ও খেলার সাথীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও গবেষণা কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। এ কার্যক্রমে মৌলিক প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণ সহায়তা দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, মনোসামাজিক দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, প্যারেন্টিং এডুকেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা পরিচালনা করা হয়। 

সভায় সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও ব্র্যাকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও খেলার সাথী কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত খেলার সাথী ও অভিভাবকরাও অংশ নেন। 

সংবাদটি পঠিতঃ ১৮১ বার


সর্বশেষ খবর