মিথ্যার মুখোমুখি প্রতিদিন:গোরস্থানের ভূত
বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:০১:৫৪

প্রকাশিত : সোমবার, ০৮ জুন ২০১৫ ০৯:১৩:৪৭ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

মিথ্যার মুখোমুখি প্রতিদিন:গোরস্থানের ভূত

 

গোরস্থানে ভূত দেখার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। বিশেষ করে, গ্রামে যাদের বাস তাদের অভিজ্ঞতা হয়তো বেশি। আমাদের গ্রামগুলোতে কবরস্থান সচরাচর আবাসস্থল থেকে কিছুটা দূরে, নির্জন স্থানে হয়। এর আশপাশে জলাভূমিও থাকে মাঝে মধ্যে। জলাভূমির সন্নিকটস্থ কিংবা যেসব গোরস্থানে পানি জমে থাকে, সেসব গোরস্থানে মূলত কবরের ভূতদের আবির্ভাব ঘটে।

গোরস্থানের ভূত দেখতে কেমন? আর দশটা ভূতের মতোই-বিকট, কদাকার, ভয়াবহ ধরনের চেহারা (শীর্ষন্দেুর গল্পের ভালো চেহারার ভূতদের দেখতে পাওয়া আজকাল খুবই দুরূহ)। গোরস্থানের ভূতদের হাতে থাকে শক্তিশালী টর্চ কিংবা বাতি- যা ক্ষনে ক্ষনে জ্বলে ওঠে। জলাভূমিতে দৃষ্ট এ আলোই আলেয়া নামে পরিচিত। অনেকের ধারণা, এ হচ্ছে ‘শয়তানের বাতি।’ শুধু আমাদের দেশে নয়, উন্নত বিশ্বের অনেক গোরস্থানে এমনটি হতে দেখা যায়। কাজেই, আলেয়ার আলো কোনো দৃষ্টিভ্রম বা হ্যালুসিনেশন নয়, এটা বাস্তব। প্রশ্ন জাগে, তা হলে এই আলোর উৎস কি?

প্রথম থেকেই বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল এ হচ্ছে মিথেন গ্যাসের স্বতঃস্ফূর্ত জ্বলন। মিথেন গ্যাসের সঙ্গে আমাদের প্রায় নাড়ির যোগ- তিতাস কিংবা বাখরাবাদ গ্যাসের মূল অংশই হলো মিথেন। জৈব দেহাবশেষ থেকে প্রচুর মিথেনের সৃষ্টি হয়। কিন্তু, না জ্বালালে মিথেনের জ্বলার কথা নয়।

জলাভূমিতে মিথেনের জ্বলে ওঠার পেছনের কারণ হলো ডাইফসফেন নামে ফসফরাস ও হাইড্রোজেনের একটি যৌগ যা বাতাসের সংস্পর্শে জ্বলে ওঠে। এ পর্যন্ত তত্ত্বটা সঠিক তবে এতেও খাদ ছিল এদ্দিন। কারণ, জৈব অবশেষ থেকে ফসফেট পাওয়া যায়, ডাইফরফেন পাওয়া যায় না। তাহলে?

মাস তিনেক আগে দু’জন জার্মান রসায়নবিদ এই ফাঁকটুকু পূরণ করেছেন। গুণ্টার গ্রাসম্যান ও গিয়েটার গিল্ডম্যান খুঁজে পেয়েছেন সেই অণুজীব (মাইক্রো ব্যাকটেরিয়া) যা ফসফেটকে ডাইফসফেনে পরিণত করে। এভাবে শতবর্ষের পুরোনো একটি সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান পাওয়া গেছে, জানা গেলো কেন জলভূমিতে আলেয়া দেখা যায়, কেনইবা গোরস্থানের ভূতরা টর্চ হাতে ঘুরে বেড়ায়। জার্মান বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কার আমাদের মতো একটি দেশের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের মনে কোনো রেখাপাত করবে কি? আমি জানি না। তবে যখন দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী লোক অসুস্থ অবস্থায় পানি পড়া নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে তখন মনে হয় আমাদের আর মানুষ হওয়া হলো না।

পুনশ্চঃ গোরস্থানে ভূতের প্রসঙ্গে আরো একটি কথা বলা দরকার। গোরস্থানে ‘সত্যিকারের ভূত’ দেখেছেন এমন কিছু লোকের অভিজ্ঞতা থেকে যে সিদ্ধান্ত বের হয়ে আসে তাহলো সচরাচর ভূত দেখে দুর্বল চিত্তের লোক। আলেয়ার আলো দেখে ভাবে শয়তানের আলো। এমনিতে আমাদের চারপাশের পারিপার্শ্বিকতা তার মনে ভূত-প্রেতের একটি স্থায়ী আবাস গড়ে তুলেছে। কাজেই মিথেনের জ্বলে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সে বিকট চেহারার ভূত দেখতে শুরু করে। দিগি¦দিক জ্ঞান হারিয়ে জ্বলে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সে বিকট চেহারার ভূত দেখতে শুরু করে। দিগি¦দিক জ্ঞান হারিয়ে ছুটতে থাকে। আমাদের দেশের একজন প্রধান কবি, তার ছোটবেলার একটি ঘটনার কথা শুনিয়েছিলেন একটি কিশোর সাময়িকীতে। সেখানে তিনি হঠাৎ তার সামনে পাটখড়ির জ্বলে ওঠার কথা উল্লেখ করেছিলেন। সহজ ব্যাখ্যা রয়েছে এ ঘটনারও।

 

সংবাদটি পঠিতঃ ৪৪৪ বার


ট্যাগ নিউজ