যেভাবে মা দিবসের সূচনা
শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭, ০৭:৩৭:১২

প্রকাশিত : রবিবার, ১০ মে ২০১৫ ০৩:১০:৪৩ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

যেভাবে মা দিবসের সূচনা

মা আর সন্তান মধুর এক সম্পর্কের নাম; এটি চিরন্তন, এটি জীবন্ত। এ সত্য সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকেই চলে আসা এক বাস্তবতা। যা ভালোবাসা আর মমতার সর্বোচ্চ আধার৷ নিরাপদ আশ্রয় আর ভরসার স্থান। মা, তুমি তো মমতাময়ী, গর্ভধারিনী, জননী৷ মায়ের এ ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আন্তর্জাতিক মা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এর পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক কাহিনী। ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ওই দিনটিকে মা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তিনি এ দিনকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। প্রেসিডেন্টের এ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পেছনে আছে মা দিসব নিয়ে মার্কিন এক পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যরক্ষাকর্মীর দীর্ঘ ইতিহাসের গল্প। এ নারীর নাম আনা জার্ভিস।

১৯০৭ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মারা যান আনা জার্ভিসের মা অ্যান জার্ভিস। তার একবছর পর ১৯০৮ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার (১০ মে) সকালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফিটন শহরে অবস্থিত একটি চার্চ প্রথমবারের মতো দিনটি উদযাপন করলেন আনা। যেখানে তার মা এ্যান জার্ভিস রোববারে পড়াতেন। বিকেলে তার নিজের শহর ফিলাডেলফিয়ায় মা দিবস পালন করেন তিনি। এরপর আমেরিকার প্রত্যেকটি অঙ্গরাজ্যের সরকারের কাছে তিনি দিবসটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করার অনুরোধ জানান। ১৯১২ সালেই আমেরিকার কিছু অঙ্গরাজ্যে দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা দেয়। আর ১৯১৪ সালে এসে উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবসের মর্যাদা দিয়ে সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ওইদিনটি সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। ১৯৬২ সালে এই দিবসটি আন্তর্জাতিক দিবসের স্বীকৃতি পায়।

anna jervise

দিসবটিকে স্বীকৃতির জন্য নিজের মায়ের একটি কথাকে সবসময়েই স্মরণে রেখেছেন আনা। তার মা বলতেন, মানবতার জন্য তার বিভিন্ন কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ কেউ না কেউ কোন একদিন মা দিবসকে স্বীকৃতি দেবে। আর মা দিবসের অফিসিয়াল প্রতীক হিসেবে তার মায়ের পছন্দের ফুল সাদা কার্নেশানকেই (সুগন্ধি পুষ্পবিশেষ) বাছাই করেন তিনি। শিশুদের প্রতি আনা জার্ভিসের অনুরোধ, এদিন প্রত্যেকেই যেন মায়ের সাথে সাক্ষাৎ করে কিংবা অন্তত মায়ের কাছে চিঠি লেখে।

আনার বয়স যখন ৪০, তখন কন্যার চোখে মায়ের মাতৃত্ব দেখেছেন অ্যান জার্ভিস। তখনই তিনি দিসবটি কীভাবে পালন করা যায়, তা নিয়ে ভেবেছেন। তার ভাবনায় এলো, সন্তানকেন্দ্রিক উদযাপন। মানে এদিন তাদের সন্তানদের কাছ থেকে ভালোবাসা পাবেন মায়েরা। এটা কোন মাতালের উদযাপন নয়; এটা একটা বাস্তব, সময়োপযোগী এবং সামাজিক জীবনে মায়েরা যে আমাদের কত বড় আশীর্বাদ, তারই স্বীকৃতি।

দিনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষিত হলেও এটিকে একদমই নিজের উদ্ভাবন হিসেবে দাবি করেন আনা। মায়েদের প্রতি আমাদের অবজ্ঞাকে স্মরণ করিয়ে দিতেই দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য আন্দোলন করেছিলেন তিনি। কিন্তু মা দিবসের ব্যাপক বাণিজ্যিকীকরণে ক্ষুদ্ধও হয়েছেন আনা নিজেই।

অন্য আরেক ইতিহাস থেকে জানা যায় মা দিবসের’প্রচলন শুরু হয় প্রথম প্রাচীন গ্রীসে। সেখানে প্রতি বসন্তকালে একটি দিন দেবতাদের মা ‘রিয়া’; যিনি ক্রোনাসের সহধর্মিনী তার উদ্দেশ্য উদযাপন করা হতো। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় ‘মা দিবস’ পালিত হতো বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে। রোমানরা পালন করতেন ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে, তারা দিনটিকে উৎসর্গ করেছিলেন ‘জুনো’র প্রতি। ষোল’শ শতাব্দী থেকে এই দিনটি যুক্তরাজ্যেও উদযাপন করা হয় ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে। ইস্টার সানডের ঠিক তিন সপ্তাহ আগের রোববারে এটি পালন করেন তারা। নরওয়েতে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রোববারে, সৌদি আরব, বাহরাইন, মিশর, লেবাননে বসন্তের প্রথম দিন অর্থ্যাৎ ২১শে মার্চে এই দিনটি উদযাপিত হয়। কিন্তু বিশ্ব জুড়ে এই যে বনার্ঢ্য ‘মা দিবস’ এর উদযাপন, এটি আসে মূলত আমেরিকানদের থেকে।

সংবাদটি পঠিতঃ ৬৭৬ বার


ট্যাগ নিউজ