কেঁচো সারে ভাগ্য বদল সেলিম-নাজমার
বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৮:৫৯:২৯

প্রকাশিত : রবিবার, ১০ মে ২০১৫ ০৫:৪৯:০৭ পূর্বাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon

কেঁচো সারে ভাগ্য বদল সেলিম-নাজমার

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা : বেসরকারি কোম্পানির চাকরি চলে যাওয়ার পর মো. সেলিম দিশেহারা হয়ে পড়েন। কী করে সংসার চালাবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। পত্রিকায় দেখলেন মেহেরপুরের আবদুল করিম নামের এক ব্যক্তি কেচোঁ সার উৎপাদন করেন। সেলিমের হতাশায় কিছুটা আলো এসে উঁকি দিল।

 

তিনি মেহেরপুরের করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার সহযোগিতায় ভারতে গিয়ে কেঁচো সার তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ নেন। ২০১২সালের কথা। সেলিম তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইলে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন। প্রথমে প্রতিবেশীরা তাকে পাগল বলত। প্রতিবেশীদের ধারণা ছিল, কেঁচোর সার আবার কে কিনবে! সেই ধারণা আজ পাল্টে গেছে। সেলিম এখন অনেকের কাছে পদপ্রদর্শক। তার দেখাদেখি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কেচোঁ সার উৎপাদন হচ্ছে। লাল রঙের কেঁচোর মল থেকে তৈরি হচ্ছে কালো জৈব সার। এ সারকে অনেকে কালো সোনা বলেও উল্লেখ করেন। সার বিক্রি করে অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে।

 

বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল বাজারের পশ্চিম পাশে মো.সেলিমের বাড়ি। কেঁচো সার উৎপাদন করেই তিনি সবার কাছে পরিচিত। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রীকে নিয়ে সেলিম সার প্যাকেট করছেন।

 

কথা হয় সেলিমের সঙ্গে। তিনি জানান, ৪ টাকা করে প্রতিটি লাল কেঁচো কিনেছেন। প্রথমে তিনি ৭০ হাজার কেঁচো কেনেন। বর্তমানে তার ফার্মে ১০ লাখ কেচোঁ রয়েছে। প্রতিটি কেঁচো তিন মাস বাঁচে। এর মধ্যে তারা তিন বার ডিম দেয়। কেঁচোর খাবার গরুর গোবর। নিজেদের গরুর গোবর শেষ হয়ে গেলে প্রতি বস্তা ১০ টাকা দরে কিনতে হয়। প্রথমে সার বাজারজাত করতে গিয়ে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। এখন কৃষি বিভাগও সার বিক্রিতে সহযোগিতা করে। এখন তার স্ত্রী নাজমা বেগম কেচোঁ সার তৈরির কাজ দেখভাল করেন। তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম আলহামদুলিল্লাহ এগ্রো।

 

নাজমা আক্তার জানান, প্রথমে তিনি কেঁচো পছন্দ করতেন না। পরে তিনিও স্বামীর সহযোগিতায় ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন। এখন তারা প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ মন সার উৎপাদন করেন। প্রতি কেজি সার ১৬-২০ টাকায় বিক্রি করেন। খরচ বাদে মাসে আয় করেন ১৫ থেকে ২০হাজার টাকা।

 

তিনি জানান, তাদের বাড়িতে অনেকগুলো গরু রয়েছে। গরুর গোবর সংগ্রহ করে একটি মাচার নিচে ১৫ দিন রাখা হয়। গন্ধ চলে গেলে আরেকটি মাচায় রাখা কেঁচোর ওপর গোবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

 

২১দিন ধরে গোবর খেয়ে কেঁচো যে মল ত্যাগ করে তা ঝুরঝুরে মাটির মতো হয়ে যায়। কেচোঁ থেকে সার সরিয়ে সাত দিন রেখে দিতে হয়। পরে চালুনি দিয়ে ময়লা সরিয়ে সার প্যাকেট করা হয়। বিষমুক্ত সারে চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। পাশের গ্রামের লোকজনও তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন করছে। বেশি চাহিদা থাকলেও তারা পুঁজির অভাবে উৎপাদন বাড়াতে পারছে না।

 

বুড়িচং উপজেলা কৃষি অফিসার আনিসুর রহমান জানান, কেঁচো সার জমির জন্য খুবই উপকারী। এতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। জৈব সার মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখে। শংকুচাইলের সেলিম ও নাজমার উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেক পরিবার কেচোঁ সার তৈরিতে উদ্যোগী হচ্ছে। সেলিম জানান, গত সপ্তাহে আমরা ৩৫ জন নারীকেকে কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়েছি।

সংবাদটি পঠিতঃ ২৫৭ বার


ট্যাগ নিউজ