বৃহস্পতিবার ১৬ আগস্ট ২০১৮, ০২:২১:৪৬

প্রকাশিত : বুধবার, ১৫ জুলাই ২০১৫ ০৩:৫৯:২৮ অপরাহ্ন Zoom In Zoom Out No icon


“ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি ঠেকাতে সবকিছু করবে ইজরায়েল”

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দেশটির সঙ্গে ছয় বিশ্ব শক্তির সমঝোতাকে ‘একটি ঐতিহাসিক ভুল’ ও ‘ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ’ আখ্যায়িত করে এই চুক্তি ঠেকাতে সামর্থ্য অনুযায়ী সবকিছু করার ঘোষণা দিয়েছে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই চুক্তির ফলে ইরান একটি জ্যাকপট পাবে; পাবে শত শত বিলিয়ন ডলারের নগদ অর্থের খনি। যা তাকে বিশ্বে এবং এই অঞ্চলে আরো আগ্রাসন ও সন্ত্রাস চালিয়ে যেতে সক্ষম করে তুলবে।’

ইরান অব্যাহতভাবে ইসরাইলকে ধ্বংস করতে তৎপর বলে উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে এ চুক্তি মানবে না তেল আবিব।’ ভিয়েনায় জাতিসংঘ ভবনে যা ঘটছে তাকে ‘ঐতিহাসিক মহাভুল’ বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘ইরানকে নিজস্ব পথ থেকে সরে না দাঁড়ানোর সব সুযোগে এতে করে দেয়া হয়েছে।’ ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে তার আগের দাবিও আবার তুলে ধরেন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, ইরানকে পরমাণু বোমা বানানো থেকে বিরত রাখার জন্য যে সব ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল তা করা হয় নি বরং সে সব ক্ষেত্রে সুদূর প্রসারী ছাড় দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় পি৫+১ নামে পরিচিত ছয় বিশ্বশক্তি- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানির সঙ্গে ইরানের যে সমঝোতা হয়েছে, তাতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে দেশটির উপর থেকে চলমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ।

চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, এ চুক্তি ‘আরও আশাবাদের বিশ্বের’ দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।

এই চুক্তি নিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বিতর্ক হবে। তবে এরইমধ্যে এর সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টির নেতারা।

তবে চুক্তি ঠেকাতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা আটকাতে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, পরমাণু ইস্যুতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর চুক্তি ইসরাইলের জন্য মৃত্যুদণ্ডের সমান। তিনি দাবি করেছেন, এ চুক্তির ফলে সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মঙ্গলবার এমএসএনবিসি-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার দেখা মতে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন একটি পদক্ষেপ।’ তিনি তার ভাষায় পরমাণু চুক্তিকে ইহুদিবাদী ইসরাইল ও সুন্নি আরব দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, এ চুক্তির ফলে এখন মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হবে।

এ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার জন্য তিনি মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান। সিনেটর গ্রাহাম বলেন, ‘যতক্ষণ ইরানিরা তাদের আচরণে পরিবর্তন না আনবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি একটি পয়সাও দেবেন না।’

তবে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যকার পরমাণু চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দৃশ্যপট পাল্টে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি।

তিনি বলেন, ‘এ চুক্তি বিশ্বের জন্য আশার প্রতীক বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য যেখানে এমন আশা খুব বেশি প্রয়োজন। কারণ এ অঞ্চল উগ্রবাদ ও যুদ্ধে পরিপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে এ চুক্তি পুরো মধ্যপ্রাচ্যেরই দৃশ্যপট পাল্টে দিতে পারে, যদি আমরা আস্থা তৈরি করতে পারি এবং এই আস্থা মধ্যপ্রাচ্যের বড় বড় সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।’

প্রসঙ্গত, ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে মঙ্গলবার চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুসারে- ইরান একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পাবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ অব্যাহত রাখতে পারবে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ব্যাংকিং, অর্থনৈতিক, তেল, গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল, বাণিজ্য, ইন্স্যুরেন্স ও পরিবহন খাতের ওপর আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে এ চুক্তির কারণে তা উঠে যাবে। আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে ১৫৯ পৃষ্ঠার এ যৌথ পূর্ণাঙ্গ কর্ম পরিকল্পনা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তোলা হবে এবং তা আনুষ্ঠানিক দলিলে পরিণত হবে।

চুক্তির ফলে একটি পারস্পরিক সমঝোতা কাঠামোর আওতায় ইরানের ওপর থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ সব ধরনের নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেয়া হবে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, রেডিও তেহরান

সংবাদটি পঠিতঃ ১৮৭ বার


আরো খবর

    ট্যাগ নিউজ

    সর্বশেষ খবর